ঢাকা শুক্রবার, ২২শে নভেম্বর ২০১৯, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আদা-রসুনে অস্থিরতার শঙ্কা


প্রকাশিত:
৮ জুলাই ২০১৯ ১৬:০৯

আপডেট:
১৫ জুলাই ২০১৯ ১৪:১০

Published: 2019-07-08 16:09:08 BdST

আদা রসুন

৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আদায় করায় আমদানিতে উৎসাহ কমেছে আদা-রসুনে আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের। বন্দরে পণ্য আটকা পড়ে রয়েছে। বাজারে দেখা দিয়েছে সংকট। বাড়তি শুল্কের কারণে কনটেইনার ভর্তি আদা-রসুন চট্টগ্রাম বন্দরে এনে ছাড় করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা।

 

খাতুনগঞ্জের ফরহাদ ট্রেডিং এর  চীন থেকে আমদানিকৃত দুই কনটেইনার রসুনে চট্টগ্রাম কাস্টমসে শুল্কায়ন হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকার। শুধু ৫ শতাংশ কাস্টম ডিউটি (সিডি) দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ছাড় হলেও নতুন বাজেটের পর পণ্য ছাড় করতে গিয়ে আরো ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর বাড়তি (এআইটি) আরোপ হয়েছে। ফলে এখন দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে আদা-রসুন ছাড় করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আদা-রসুনের বাজার নতুন করে অস্থিরতা এড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আমদানিকারকরা।

 

ফরহাদ ট্রেডিংয়ের কর্ণধার নুর হোসেন বলেন, আগে রসুন আমদানি করতাম ৮০০ ডলারে এখন সেটি সাড়ে ১৪০০ ডলার হয়েছে। কাস্টমসে শুল্কায়ন হচ্ছে বাড়তি দামের ওপর। আগে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে কেজিতে খরচ হতো ৬ টাকা এখন খরচ হচ্ছে ২০ টাকা। সুতরাং বাড়তি ১৪ টাকা যোগ হলে রসুনের দাম কোথায় পৌঁছবে?

 

জানা গেছে, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো পণ্যের বাজার ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার অনেক আগে থেকেই কাস্টম ডিউটি ছাড়া বাকি সব শুল্কহার প্রত্যাহার করেছে। এই কারণে এত দিন ধরে বাজার স্থিতিশীল ছিল। এমনকি গত রমজানেও বাজার অস্থিরতা হয়নি।

 

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আদা আমদানিকারক ফুলকলি গ্রুপের জাবেদ ওসমান বলেন, ‘আমদানি খরচ বেশি পড়ায় নতুন করে অনেকেই আদা আমদানির ঝুঁকি নিতে চাইছে না। এর পরও কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়ার আশায় ঝুঁকি নিয়ে করছেন কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই কম। এই কারণে ব্যাংকে আদার ঋণপত্র খোলা প্রায় বন্ধ। রসুনেরও একই অবস্থা। এই অবস্থায় আমি চীন থেকে আমদানি এক মাস ধরে বন্ধ রেখেছি।’ অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বাজারে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলম বাদশা মনে করেন, আদা-রসুনের সংকট হবে এমন কথা সবার মুখে মুখে। সরকারের উচিত অস্থিরতার আগেই বৈঠকে বসে এর দ্রুত সুরাহা করা। কারণ শেষ মুহূর্তে এসে বৈঠক করলে তখন করার কিছুই থাকে না।

 

এদিকে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাদের অনেকেই বলছেন, মোট শুল্কায়ন মূল্যের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ হবে না। তাদের দাবি শুল্কের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ হবে।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম আয়কর সব সময় মোট শুল্কায়ন মূল্যের (অ্যাসেসেবল ভ্যালু) ওপর আরোপ হয়। বাজেট পাসের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে সিস্টেমে আপলোড হয়ে যাবে। এখানে আমাদের করণীয় কিছুই নেই।

 

এদিকে আদা-রসুনে অগ্রিম আয়কর চাপিয়ে দেওয়ায় অনেক আমদানিকারক এখন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ছাড় করছেন না। চার দিন পর বন্দর থেকে ছাড় না করলে প্রতিদিন মাসুল যোগ হবে। এই অবস্থার পণ্য ছাড় করলে বাড়তি শুল্ক আরোপ হবে আবার পণ্য দ্রুত ছাড় না করলে বন্দরের মাসুল যোগ হবে। এ নিয়ে তাঁরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এ জন্য এর দ্রুত সমাধান চান ব্যবসায়ীরা।



আপনার মতামত শেয়ার করুন:

Top